”শ্রী চন্তাকিন্দি কিরণ কুমার ভারতের অন্ধ্রপ্রদেশে জয়লক্ষ্মী পেইন্ট শপের মালিক। অনেক ছোট ব্যবসায়ীর মতোই, তিনি পয়েন্ট-অফ-সেল ডিভাইসের ওপর নির্ভর করতেন, তবে ফিশিং এবং অ্যাকাউন্ট লঙ্ঘন নিয়ে উদ্বিগ্ন ছিলেন। তিনি প্রায়ই মনে করতেন যে সাইবার নিরাপত্তা তার জন্য অত্যন্ত প্রযুক্তিগত, ফলে দোকান সুরক্ষিত রাখার বিষয়ে তিনি অনিশ্চিত ছিলেন। APAC Cybersecurity Fund-এর প্রশিক্ষণ তার দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তন করে দেয়। কিরণ কুমার ফিশিং আক্রমণ শনাক্ত করা, কর্মীদের জন্য শক্তিশালী পাসওয়ার্ড ব্যবহার করা এবং দোকানের সব ডিভাইসে এন্ডপয়েন্ট সুরক্ষা ইনস্টল করা শিখেছেন। প্রথমবারের মতো, তিনি ডিজিটাল লেনদেন পরিচালনায় নিরাপত্তা অনুভব করেন। এরপর থেকে তার দোকানে একটিও সাইবার ঘটনার সম্মুখীন হতে হয়নি, এবং তিনি আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে পেমেন্ট ও গ্রাহকদের আস্থা পরিচালনা করছেন। এখন তিনি এই অভ্যাসগুলো তার কর্মী ও সহকর্মীদের সঙ্গে ভাগ করে নিচ্ছেন, প্রমাণ করে যে ছোট ব্যবসাগুলিও সহজ কিন্তু শক্তিশালী সাইবার নিরাপত্তা অভ্যাসের মাধ্যমে স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে পারে।”
“আমি ভিয়েতনামের কন তুমে ডাটো পরিচালনা করি, যেখানে আমরা ৫০০-র বেশি ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর পরিবারের সঙ্গে মসলা ও ঔষধি গাছ উৎপাদনে কাজ করি। শুরুতে আমি ভাবতাম সাইবার নিরাপত্তা শুধুমাত্র বড় কোম্পানির জন্য—আমার মনোযোগ ছিল শুধু মার্কেটিং-এর জন্য ডিজিটাল টুল শেখায়। কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ গ্রাহক তথ্য প্রায় হারিয়ে ফেলতে বসে আমি ঝুঁকিপূর্ণ বোধ করি। ACF প্রশিক্ষণে যোগ দেওয়ার পর বুঝলাম ছোট ভুলও আমাদের ব্যবসা ও অংশীদার পরিবারগুলোর জন্য বিপজ্জনক হতে পারে। আমি শিখেছি ফিশিং চিহ্নিত করা, টু-ফ্যাক্টর অথেন্টিকেশন চালু করা এবং টিমের জন্য নিরাপদ ফাইল শেয়ারিং পদ্ধতি ব্যবহার করা। এতে আমাদের ব্যবসার নিরাপত্তা আরও শক্তিশালী হয়েছে, এবং আমি আমার টিমকে এসব শেখাতে অভ্যন্তরীণ সেশনও নিয়েছি। আজ আমি সাইবার নিরাপত্তাকে আমাদের উন্নতি ও স্থায়িত্বের মূল ভিত্তি হিসেবে দেখি—যা আমাদের ডিজিটাল অর্থনীতিতে নিরাপদে এগিয়ে যেতে সহায়তা করে।”
“আমি খুলনার একটি ছোট ব্যবসা, জিহাদ স্টোর পরিচালনা করি। যোগাযোগের জন্য আমি Gmail এবং পেমেন্টের জন্য bKash ব্যবহার করতাম, কিন্তু দুর্বল পাসওয়ার্ডের কারণে আমার অ্যাকাউন্ট কতটা ঝুঁকিপূর্ণ ছিল, তা জানতাম না। যখন অনলাইন ব্যবসা বাড়াতে শুরু করলাম, তখন এই ঝুঁকি আমাকে চিন্তিত করত। APAC Cybersecurity Fund প্রশিক্ষণে যোগ দেওয়ার পর বুঝলাম সাইবার নিরাপত্তা শুধু বড় কোম্পানির জন্য নয়—আমাদের মতো উদ্যোক্তাদের জন্যও সমান গুরুত্বপূর্ণ। আমি শক্তিশালী এবং ইউনিক পাসওয়ার্ড তৈরি করা এবং টু-ফ্যাক্টর অথেন্টিকেশন চালু করা শিখেছি। এই সহজ পদক্ষেপগুলো আমাকে আমার ডিজিটাল টুলগুলো নিরাপদে ব্যবহার করার আত্মবিশ্বাস দিয়েছে। এরপর থেকে আমি আমার কমিউনিটির অন্যান্য নারীদেরও শেখাচ্ছি কীভাবে অ্যাকাউন্ট সুরক্ষিত রাখতে হয় এবং প্রতারণা এড়াতে হয়। আজ সত্যিই বলতে পারি, এই প্রশিক্ষণ আমাকে মানসিক শান্তি দিয়েছে এবং আমি নিশ্চিন্তে আমার ব্যবসায় মন দিতে পারছি।”
“আমি রাজশাহীতে একটি ই-কমার্স ব্যবসা পরিচালনা করি। একদিন আমাকে ফোন করে বলা হয় যে আমি নাকি একটি বড় নগদ পুরস্কার জিতেছি, এবং ‘ব্যাংক কর্মকর্তা’ আমার মোবাইল ওয়ালেটের PIN চাইলো পুরস্কারটি প্রক্রিয়া করার জন্য। প্রথমে আমি উত্তেজিত হয়ে পড়েছিলাম, কিন্তু পরে কিছুটা সন্দেহ হয় এবং PIN দেওয়ার আগে নিজেকে থামিয়ে দিই। এই অভিজ্ঞতা আমাকে ভয় পাইয়ে দিয়েছিল এবং বুঝিয়েছিল যে প্রতারণা কত সহজে মানুষকে ধোঁকা দিতে পারে। APAC Cybersecurity Fund প্রশিক্ষণে যোগ দেওয়ার পর আমি শিখেছি কীভাবে এসব প্রতারণা কাজ করে এবং কীভাবে নিজেকে রক্ষা করতে হয়। আমি শিখেছি ফিশিং কল চিনতে, সন্দেহজনক নম্বর ব্লক করতে এবং শক্তিশালী পাসওয়ার্ড দিয়ে আমার অ্যাকাউন্ট সুরক্ষিত রাখতে। তারপর থেকে আমি আমার কমিউনিটির অন্য ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের এসব শিখিয়ে দিচ্ছি যাতে তারাও একই ফাঁদে না পড়ে। এই প্রশিক্ষণ আমার জন্য সত্যিকারের একটি টার্নিং পয়েন্ট হয়েছে, যা আমাকে নির্ভয়ে অনলাইন ব্যবসা চালানোর আত্মবিশ্বাস দিয়েছে।”
“আমি ISRM মডিউলের অংশ হিসেবে ACF সাইবার ক্লিনিকে যোগ দিই, এবং আমার প্রযুক্তিগত পটভূমি ছিল বেশ শক্তিশালী। শুরুতে আমি সাইবার সিকিউরিটিকে শুধু একটি প্রযুক্তিগত সমস্যা হিসেবে দেখতাম—টুল, ফ্রেমওয়ার্ক ও দুর্বলতা বিশ্লেষণ। কিন্তু প্রোগ্রাম চলাকালে একটি বাস্তব সফটওয়্যার স্টার্টআপের সাথে কাজ করা আমার দৃষ্টিভঙ্গি পুরো বদলে দিয়েছে। বুঝেছি—ঝুঁকি মূল্যায়ন মানে শুধু চেকবক্স পূরণ করা নয়; বরং ব্যবসা কীভাবে চলে, এবং সিকিউরিটি সমস্যা কীভাবে আর্থিক ক্ষতি বা সুনামহানি ঘটাতে পারে তা বোঝা। আমি আরও শিখেছি কীভাবে জটিল প্রযুক্তিগত ঝুঁকিকে সহজ ভাষায় ব্যাখ্যা করতে হয়—যাতে MSME মালিকরা তা বুঝে পদক্ষেপ নিতে পারেন। SQL injection-কে প্রযুক্তিগতভাবে ব্যাখ্যা না করে আমি শেখেছি বলতে—‘এটি গ্রাহকের ডেটা চুরি হওয়ার ঝুঁকি।’ এই অভিজ্ঞতা আমাকে শিখিয়েছে—আমার ভূমিকা শুধু সমস্যা খুঁজে বের করা নয়, বরং ব্যবসাকে বাস্তবসম্মত ও সাশ্রয়ী উপায়ে সুরক্ষিত থাকতে সাহায্য করা। এটি আমার কমিউনিটিতে অবদান রাখার দৃষ্টিভঙ্গি সম্পূর্ণ বদলে দিয়েছে।”
“উদন থানির খোক লাম গ্রামের প্রধান হিসেবে, আমি প্রায়ই আমার ডিজিটাল নিরাপত্তা কীভাবে পরিচালনা করব তা নিয়ে অনিশ্চিত ছিলাম। আমার সম্প্রদায়ের অনেকের মতো আমিও অন্যের ওপর নির্ভর করতাম অ্যাকাউন্ট তৈরি বা পাসওয়ার্ড সেট করার জন্য — যা আমাকে প্রতারণার ঝুঁকিতে ফেলত। ACF প্রশিক্ষণে যোগ দেওয়ার সময় ভাবতাম সাইবার নিরাপত্তা আমার সামর্থ্যের বাইরে। কিন্তু কোর্সটি আমাকে দেখিয়েছে এমন কিছু ব্যবহারিক পদক্ষেপ, যা আমি নিজেই করতে পারি। আমি শক্তিশালী পাসওয়ার্ড তৈরি করা, অপ্রয়োজনীয় অ্যাকাউন্ট মুছে ফেলা এবং Google Play Store-এর অ্যাপ নিরাপদে ব্যবহার করা শিখেছি। জীবনে প্রথমবার আমি আমার ফোন ও অনলাইন অ্যাকাউন্টের সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ অনুভব করেছি। প্রশিক্ষণের পর আমি কমিউনিটি রেডিওতে এবং সরাসরি গ্রামবাসীদের সাথে এসব জ্ঞান শেয়ার করেছি — যাতে তারাও ডিজিটাল নিরাপত্তা অভ্যাস গড়ে তুলতে পারে। আজ আমি বলতে পারি, এই প্রোগ্রাম আমার চোখ খুলে দিয়েছে — শুধু আমার ডিজিটাল জীবনকেই নিরাপদ করেনি, বরং পুরো সম্প্রদায়কে অনলাইন প্রতারণা থেকে রক্ষা করতে আমাকে সক্ষম করেছে।”
“আমি শ্রীলঙ্কায় একটি ছোট টেকসই ফ্যাশন ব্যবসা পরিচালনা করি, যেখানে অনলাইন বিক্রি ও ডিজিটাল গ্রাহক সংযোগের উপর নির্ভর করি। ACF Cyber Hygiene Awareness Program-এ যোগ দেওয়ার আগে, সাইবার নিরাপত্তা আমার ব্যবসার কৌশলের অংশ ছিল না — আমি শুধু বিক্রি ও দৈনন্দিন কাজের দিকে নজর দিতাম, বুঝতে পারিনি যে অনলাইন হুমকি সরাসরি আমার ব্যবসার ধারাবাহিকতা ও গ্রাহকদের সম্পর্ককে প্রভাবিত করতে পারে। প্রশিক্ষণে আমি ব্যবহারিক সাইবার নিরাপত্তা দক্ষতা শিখেছি: আমরা দুই-স্তরের যাচাইকরণ চালু করেছি, পাসওয়ার্ড ব্যবস্থাপনা শক্তিশালী করেছি এবং নিরাপদ ডিজিটাল যোগাযোগের জন্য পরিষ্কার অভ্যন্তরীণ নির্দেশিকা তৈরি করেছি। এসব পদক্ষেপ আমাদের অনলাইন প্ল্যাটফর্ম নিরাপদ করেছে, গ্রাহকের ডেটা সুরক্ষিত করেছে এবং ডিজিটাল লেনদেনে বিঘ্ন কমিয়েছে। একবার আমাদের নেটওয়ার্কে ফিশিং আক্রমণ চেষ্টা করা হলে আমরা দ্রুত চিনতে পারি এবং সাড়া দিই — ফলে আর্থিক ক্ষতি এড়ানো যায়। সেই ঘটনার পর বুঝেছি প্রস্তুতি কতটা গুরুত্বপূর্ণ। এখন আমি নিয়মিত ডিজিটাল-সিকিউরিটি পর্যালোচনা করি, কর্মী ও অংশীদারদের নিরাপদ অনলাইন অভ্যাস শেখাই এবং সাইবার নিরাপত্তাকে দৈনন্দিন কার্যক্রমে অন্তর্ভুক্ত করি। আজ আমাদের গ্রাহক ও ব্যবসা আরও সুরক্ষিত, এবং আমাদের প্রতিষ্ঠান আরও স্থিতিশীল।”
“মোহিনী নামজোশি ভারতের পুনেতে একটি ছোট পোশাক ব্যবসা পরিচালনা করেন, যেখানে গ্রাহকদের সাথে অধিকাংশ যোগাযোগ সামাজিক মাধ্যমে হয়। তিনি আগে আশঙ্কা করতেন যে ফিশিং প্রতারণা বা হ্যাক হওয়া অ্যাকাউন্ট তার ব্যবসার ক্ষতি করতে পারে। APAC Cybersecurity Fund প্রশিক্ষণের আগে তিনি ভাবতেন নিরাপত্তা সরঞ্জামগুলো জটিল ও নাগালের বাইরে। এই প্রোগ্রাম তার মানসিকতা বদলে দেয় এবং দেখায় যে এগুলো ব্যবহারিক ও সহজ। মোহিনী Google Authenticator ব্যবহার করে দুই-ধাপ যাচাইকরণ চালু করা, নিয়মিত লগইন কার্যক্রম পর্যালোচনা করা এবং ডাইরেক্ট মেসেজে ফিশিংয়ের ব্যাপারে সতর্ক থাকা শিখেছেন। এসব পদক্ষেপ তাকে অনলাইনে ব্যবসা চালিয়ে যাওয়ার জন্য মানসিক স্বস্তি দিয়েছে। এখন তিনি আত্মবিশ্বাসের সাথে নিজের ডিজিটাল উপস্থিতি পরিচালনা করেন, কর্মীদের সাথে জ্ঞান ভাগ করেন এবং তার পরিমণ্ডলের অন্যান্য নারী উদ্যোক্তাদের সাইবার নিরাপত্তাকে অগ্রাধিকার দিতে উৎসাহিত করেন।”
“আমি ঢাকায় একটি মোবাইল অ্যাক্সেসরিজ দোকান পরিচালনা করি। একদিন একটি কল পেলাম যেখানে বলা হলো আমি এক মোবাইল ওয়ালেট প্ল্যাটফর্মে নগদ পুরস্কার জিতেছি। কলার আমাকে একটি ছোট ‘যাচাই’-মূলক টাকা পাঠাতে বললেন — আমি পাঠালাম, পরে বুঝলাম এটি প্রতারণা। হতাশ ও মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে আমি ACF প্রশিক্ষণে যোগ দিলাম। এর আগে ভাবতাম এমন প্রতারণা এড়ানো যায় না। কিন্তু প্রশিক্ষণে শিখেছি কীভাবে সতর্ক সংকেত চেনা যায়, শক্তিশালী পাসওয়ার্ড তৈরি করতে হয় এবং ফোন নিরাপত্তা আপডেট রাখতে হয়। নতুন আত্মবিশ্বাস নিয়ে আমি দোকানে আসা গ্রাহকদের ডিজিটাল নিরাপত্তা নিয়ে পরামর্শ দিতে শুরু করি। প্রশিক্ষণটি আমার ব্যক্তিগত বিপর্যয়কে শেখার অভিজ্ঞতায় পরিণত করেছে — শুধু আমার জন্য নয়, সম্প্রদায়ের জন্যও। এখন আমি নিজেকে নিরাপদ ডিজিটাল অভ্যাসের প্রচারক হিসেবে দেখি।”
“আমি সাইবার ক্লিনিকে এসেছিলাম সাইবার সিকিউরিটি সম্পর্কে খুব কম জ্ঞান নিয়ে—কিন্তু প্রযুক্তি কীভাবে সামাজিক প্রভাব তৈরি করতে পারে তা নিয়ে গভীর আগ্রহ ছিল। আমি প্রশিক্ষণটিকে সম্পূর্ণ নতুন কিছু শেখার সুযোগ হিসাবে দেখেছিলাম। সেশনগুলোতে অংশ নেওয়ার সময় জানতে পারলাম যে ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান কত সহজে অনলাইন ঝুঁকির শিকার হতে পারে, আবার এটাও দেখলাম কীভাবে সচেতনতা ও সহজ অভ্যাস বড় পার্থক্য এনে দিতে পারে। আমার সবচেয়ে বড় শেখাগুলোর একটি ছিল সাইবার সিকিউরিটিকে সহজ ভাষায় ব্যাখ্যা করা—বিশেষত যাদের প্রযুক্তিগত পটভূমি নেই তাদের জন্য। ফিশিং চিনে ফেলা বা দুই-স্তরের যাচাইকরণ চালু করার মতো বেসিক পদক্ষেপও MSME-দের জন্য বিশাল সুরক্ষা তৈরি করতে পারে। সাইবার ক্লিনিক আমাকে বদলে দিয়েছে। এখন আমি শুধু শিক্ষার্থী নই—আমি একজন সচেতনতা দূত, যিনি ব্যবহারিক জ্ঞান শেয়ার করে অন্যদের নিজেদের সাইবার নিরাপত্তার দায়িত্ব নিতে সাহায্য করতে পারেন।”
“সিঙ্গাপুরের একটি ছোট লজিস্টিক ফার্ম হিসেবে NNR Global Logistics প্রায়ই ফিশিং আক্রমণের মুখোমুখি হতো। আমরা ভাবতাম সাইবার নিরাপত্তা শুধু আইটি বিভাগের বিষয়। উন্নতি করতে আগ্রহী হয়ে আমরা Temasek Polytechnic-এর ছাত্রদের পরিচালিত ACF Cyber Clinic-এ যোগ দিই। সেশনের মাধ্যমে আমরা বুঝতে পারি — সাইবার নিরাপত্তা ব্যবসা পরিচালনার অংশ, শুধু প্রযুক্তিগত নয়। আমরা আমাদের পাসওয়ার্ড নীতিমালা পর্যালোচনা করেছি, ডিভাইস নিরাপত্তা বাড়িয়েছি এবং কর্মীদের ফিশিং শনাক্ত করার প্রশিক্ষণ দিয়েছি। এরপর থেকে আমরা ত্রৈমাসিক সিকিউরিটি অডিট করি — কর্মীরা আরও আত্মবিশ্বাসী বোধ করেন। আজ সাইবার নিরাপত্তাকে আমরা ব্যবসার অগ্রাধিকার হিসেবে দেখি। এই পরিবর্তন আমাদের কার্যক্রম আরও মসৃণ ও গ্রাহকদের আস্থা আরও শক্তিশালী করেছে।”
“ACF Cyber Clinic প্রশিক্ষণে যোগ দিয়েছি ব্যবহারিক অভিজ্ঞতা অর্জন করতে এবং ক্লাসে শেখা বিষয় বাস্তবে প্রয়োগ করতে। প্রোগ্রামের মাধ্যমে আমি ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা দক্ষতা শিখেছি — মূল্যায়ন করা, দুর্বলতা শনাক্ত করা এবং MSME-দের জন্য উপযোগী বাস্তবসম্মত সমাধান তৈরির সক্ষমতা। আমাদের দল একটি ছোট বেসরকারি হাসপাতালের সঙ্গে কাজ করেছে, যেখানে আমাকে এমন কর্মীদের সাথে কথা বলতে হয়েছে যাদের প্রযুক্তিগত জ্ঞান খুবই কম। সেখানে আমি শিখেছি কীভাবে সাইবার নিরাপত্তার ধারণাগুলো সহজ ভাষায় ব্যাখ্যা করতে হয়, যাতে স্টাফরা বোঝে কেন ডিজিটাল সম্পদ রক্ষা করা জরুরি। আমি সচেতনতা উপকরণ ও প্রশ্নাবলী তৈরি করেছি, প্রশিক্ষণ শেষে কর্মীদের বোঝাপড়া মূল্যায়নের জন্য। এই অভিজ্ঞতা আমার প্রযুক্তিগত এবং যোগাযোগ দক্ষতা দুটোই উন্নত করেছে। সবচেয়ে বড় শিক্ষা ছিল — বেশিরভাগ সাইবার ঘটনা প্রযুক্তিগত কারণে নয়, বরং সচেতনতার অভাবে ঘটে। এখন আমার ভূমিকা শুধু সিস্টেম রক্ষা করা নয় — আমি আমার সম্প্রদায়ে সাইবার নিরাপত্তা সংস্কৃতি গড়ে তুলতে চাই। ছোট ছোট সচেতনতা উদ্যোগও বড় পরিবর্তন আনতে পারে।”
“আমি Temasek Polytechnic-এর Diploma in Cybersecurity & Digital Forensics কোর্সের শেষ বর্ষের শিক্ষার্থী। আমি Temasek Polytechnic-এর Cybersecurity Clinic-এ একজন ফ্যাসিলিটেটর হিসেবেও কাজ করি, যেখানে আমি স্থানীয় কোম্পানির কর্মীদের মধ্যে সাইবার নিরাপত্তা সচেতনতা বাড়াতে সহায়তা করি। অনেক ব্যক্তি ও ক্ষুদ্র-মাঝারি প্রতিষ্ঠান (SMEs) ডিজিটাল টুলের উপর নির্ভরশীল হলেও অনলাইন হুমকি মোকাবিলায় তারা প্রস্তুত নাও থাকতে পারে। Cybersecurity Clinic-এর মাধ্যমে আমি বিভিন্ন শিল্পের কোম্পানির সাথে প্রশিক্ষণ সেশন পরিচালনার সুযোগ পেয়েছি। এসব অভিজ্ঞতা আমাকে সাইবার নিরাপত্তার বিভিন্ন ক্ষেত্র, যেমন গভার্ন্যান্স ও ঝুঁকি মূল্যায়ন সম্পর্কে গভীর ধারণা দিয়েছে।”
“আমি জাকার্তায় একজন ছোট উদ্যোক্তা। একদিন আমি একটি ফোন পেলাম, যেখানে একজন ব্যক্তি নিজেকে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের কর্মকর্তা বলে দাবি করলেন। তিনি আমাকে এমন একটি ‘বকেয়া ঋণ’-এর জন্য টাকা স্থানান্তর করতে চাপ দিলেন, যা আমি কখনও নেইনি। আমি ভয় পেয়ে গিয়েছিলাম এবং বিভ্রান্ত ছিলাম, কিন্তু APAC Cybersecurity Fund প্রশিক্ষণে শেখা বিষয়গুলোর কারণে আমি সতর্ক সংকেতগুলো চিনতে পারলাম এবং প্রতারণার ফাঁদে পড়িনি। এর আগে আমি ভাবতাম প্রতারণা শুধু ‘দুর্ভাগ্য’, কিন্তু এখন আমি জানি এগুলো কীভাবে কাজ করে এবং কীভাবে নিজেকে সুরক্ষিত রাখতে হয়। প্রশিক্ষণের পর আমি আমার পাসওয়ার্ডগুলো আরও শক্তিশালী করেছি, দুই-স্তরের যাচাইকরণ চালু করেছি এবং একটি পাসওয়ার্ড ম্যানেজার ব্যবহার করতে শুরু করেছি। এখন আমি এই জ্ঞান আমার MSME দলের অন্যান্য নারী উদ্যোক্তাদের সাথে শেয়ার করি, তাদের স্মরণ করিয়ে দিই যে কোনও সন্দেহজনক অনুরোধ যাচাই না করে যেন কখনো সিদ্ধান্ত না নেয়। এই প্রশিক্ষণ আমার জীবনে একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন এনেছে, যা আমাকে ভয়ের বাইরে থেকে আত্মবিশ্বাসের সাথে ব্যবসা চালানোর শক্তি দিয়েছে।”
“আমি আগে একটি অনলাইন প্রতারণার শিকার হয়েছি, এবং আমি চাই না আমার পরিবার বা অন্য কোনো ফিলিপিনো মানুষ একই কষ্টের মধ্য দিয়ে যাক। অনলাইন প্রতারণা সম্পর্কে কিছু জানতাম, কিন্তু যখন নিজে প্রতারণার শিকার হলাম, বুঝলাম আমি সঠিকভাবে পরিস্থিতি বিশ্লেষণ ও সামলানোর দক্ষতা রাখি না। সেই অভিজ্ঞতাই আমাকে ACF-এর ট্রেইনার হতে অনুপ্রাণিত করেছে। প্রোগ্রামের মাধ্যমে আমি শুধু জ্ঞানই নয়, আক্রমণের সময় কীভাবে প্রতিক্রিয়া জানাতে হয় সে সম্পর্কেও মানুষকে দক্ষ করতে চাই। ACF-এর সহজ ও পরিষ্কার শেখানোর পদ্ধতি সাধারণ মানুষকে দৈনন্দিন জীবনে এগুলো ব্যবহার করতে সাহায্য করে। এক অংশগ্রহণকারী বলেছিলেন—‘টেক স্যাভি’ মানে সব অ্যাপ ব্যবহার করা নয়, বরং নিজেকে ও চারপাশকে সুরক্ষিত রাখা। সেই কথাটি আমার মধ্যে থেকে গেছে। ACF-এর অংশ হয়ে আমি একজন ট্রেইনার হিসেবে আরও শক্তিশালী বোধ করি, কারণ আমি MSME-দের আত্মবিশ্বাস তৈরি করতে সাহায্য করতে পারছি।”
“আমি গ্রামীণ এলাকায় বড় হয়েছি, যেখানে অনেক মানুষ কেবল সচেতনতার অভাবে অনলাইন প্রতারণার শিকার হয়। যখন আমাকে ACF-এ ট্রেইনার হিসেবে যোগ দিতে বলা হলো, আমি সঙ্গে সঙ্গে রাজি হলাম। এটি আমার কাছে অর্থবহ মনে হয়েছে, কারণ ছোট ব্যবসা মালিকরা সোশ্যাল মিডিয়া ও অনলাইন প্ল্যাটফর্মের উপর নির্ভর করেন, কিন্তু কীভাবে নিরাপদে ব্যবহার করতে হয় তা সবসময় জানেন না। একটি প্রশিক্ষণ সেশনে আমি দেখলাম অনেকেই মনে করেন ফোন বা ডিভাইস আপডেট ক্ষতিকর—যা আমাকে বিস্মিত করেছিল। আমি ব্যাখ্যা করলাম যে আপডেটগুলো গুরুত্বপূর্ণ নিরাপত্তা সুরক্ষা দেয়, এবং ধাপে ধাপে তাদের প্রক্রিয়াটি দেখালাম। অনেকেই সেই দিনে প্রথমবার ফোন আপডেট করলেন এবং পরে জানালেন যে তারা পরিবারকেও শেখিয়েছেন। ACF-এর মাধ্যমে আমি একজন ট্রেইনার হিসেবে বেড়েছি—জটিল বিষয় সহজ ভাষায় ও ইবান ভাষায় ব্যাখ্যা করা শিখেছি, যা কানউইট, সারাওয়াকের MSME-দের জন্য সেশনগুলো আরও প্রাসঙ্গিক করেছে।”
“ACF সাইবার ক্লিনিকের মাধ্যমে আমি বুঝেছি, খুব সাধারণ সাইবার সিকিউরিটি অভ্যাসও ছোট ব্যবসার নিরাপত্তা অনেক বাড়াতে পারে। অনলাইন সিস্টেম কীভাবে কাজ করে এবং কীভাবে সেগুলো সুরক্ষিত রাখা যায়—এগুলো জানতে আমার বিশেষ আগ্রহ ছিল। প্রশিক্ষণে আমি শিখেছি কীভাবে সাধারণ সাইবার হুমকি চিহ্নিত করতে হয়, ঝুঁকি মূল্যায়ন করতে হয়, এবং MSME-দের ব্যবহারিক পদক্ষেপ শেখাতে হয়—যেমন অ্যাকাউন্ট সুরক্ষিত রাখা, গ্রাহকের ডেটা রক্ষা করা, এবং নিরাপদ ডিজিটাল অভ্যাস তৈরি করা। উদ্যোক্তাদের আত্মবিশ্বাস বাড়তে দেখা আমার জন্য সত্যিই অনুপ্রেরণাদায়ক। এখন আমি বুঝি সাইবার সিকিউরিটি শুধু জটিল টুল নয়—এটা সচেতনতা এবং নিয়মিত অভ্যাসের বিষয়। সাইবার ক্লিনিকের অংশ হিসেবে আমি এখন নিজেকে একজন সচেতনতা প্রচারক হিসাবে দেখি, যারা অন্যদের সহজ ও সাশ্রয়ী পদক্ষেপ নিতে সাহায্য করে।”
“আমি সাইবার ক্লিনিকে যোগ দিই কারণ আমার পরিবারের একজন সদস্য সাইবার সিকিউরিটি পড়ছে, এবং প্রযুক্তিকে তারা আমার চেয়ে সম্পূর্ণ আলাদা দৃষ্টিভঙ্গিতে দেখে—যা আমাকে কৌতূহলী করেছিল। ক্লিনিক আমাকে সেই দৃষ্টিভঙ্গি বোঝার সুযোগ দিয়েছে। সেশনে আমরা অপরিচিত সিস্টেম, হার্ডওয়্যার সমস্যা এবং প্রচুর ত্রুটির মুখোমুখি হয়েছি। কখনও কখনও এটি হতাশাজনক ছিল, কিন্তু এটি আমাকে ধৈর্য এবং অধ্যবসায়ের মূল্য শিখিয়েছে। আমি শিখেছি—প্রতিটি সমস্যার সমাধান আছে; শুধু সময় ও চেষ্টা লাগে। এই মানসিকতা শুধু সাইবার সিকিউরিটিতে নয়, ব্যবসা ও দৈনন্দিন জীবনেও কাজে লাগে, বিশেষত ছোট উদ্যোক্তাদের জন্য। এই অভিজ্ঞতা আমার অনলাইন নিরাপত্তা সম্পর্কে দৃষ্টিভঙ্গি বদলে দিয়েছে। এখন আমি ঝুঁকিগুলো সম্পর্কে আরও সচেতন এবং নিজেকে ও আমার সম্প্রদায়কে সুরক্ষিত রাখার মতো জ্ঞান নিয়ে আত্মবিশ্বাসী।”